আসন্ন ঈদুল আজহায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৯০টি ইঞ্জিন প্রস্তুত করা হচ্ছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুই বিভাগে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কারখানায় এসব ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রেলের বহরে মোট ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৭টি। এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ১৬৭টি ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন ১৩০টি। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুস্কাল ধরা হয় ২০ বছর। ইতোমধ্যে ৫১ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুস্কাল পেরিয়ে গেছে। অর্থনৈতিক আয়ুস্কাল আছে এমন ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৪৭টি। বাকি ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫০টি ও ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রয়েছে ১৬টি। অবশিষ্ট ৮৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে।
সূত্রমতে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১০০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন। তবে, পাওয়া যায় ৭৮ থেকে ৮০টি। ঈদের সময়ে মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ঘাটতি পুরণে ওইদিক থেকে কিছু ইঞ্জিন যোগান দেওয়া হয়।
সূত্র আরও জানায়, রেলওয়ের ডিজেল শপে দক্ষ লোকবল সংকট দীর্ঘদিনের। দক্ষ লোকবল না থাকায় নতুন লোকবল দিয়ে ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে। ইঞ্জিন মেরামতে যে মানের যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয় সেই মানের যন্ত্রাংশেরও অভাব রয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ৯০ থেকে ৯৫টির মতো লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রয়োজন হবে জানিয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, গত ঈদুল ফিতরে ৮৮টি ইঞ্জিন পেয়েছিলাম।
ঈদুল আজহায় ৯০ থেকে ৯৫টির মতো টার্গেট করেছি। এর মধ্যে যতটা পাওয়া যায়। আমাদেরকে দুই বিভাগ থেকে (পাহাড়তলী ও ঢাকা বিভাগে) ইঞ্জিনের চাহিদা দেওয়া হয়। ঈদে কতটি ট্রেন চলবে দুই বিভাগ থেকে চাহিদা পাওয়ার পর আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পাহাড়তলী কারখানা এবং ঢাকা কারখানায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক বলেন, ঈদুল আজহায় নির্বিঘ্নে যাত্রী পরিবহনের জন্য আমাদের দুই বিভাগে ৯০টি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে।
আমরা পাহাড়তলী ডিজেল শপে ৫৫টি ইঞ্জিন মেরামত করছি। ঢাকা বিভাগে ৩৫টি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৬টির মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি ইঞ্জিন মেরামত করা হয়।