সাংবাদিকদের মারধর করার অভিযোগে আগে থেকেই আলোচিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী কর্মীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ মে) বেলা পৌনে ২টার দিকে নগরের টাইগারপাস এলাকায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ বাধা দিতে গেলে এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ডিসি আমিরুল ইসলাম নুসরাত আক্তার নামের এক নারী কর্মীর গায়ে হাত দিয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় এনসিপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় একই এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন তারা।
সকালে নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশ এলাকায় সভা-সমাবেশ এবং মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সিএমপি। এরপরও দুপুরে এনসিপির নেতা-কর্মীরা টাইগারপাস এলাকায় জড়ো হয়ে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি তরুণীদের গায়ে হাত দিইনি।
নগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকতে গিয়েছিলেন। পুলিশ বাধা দিয়েছে। এ সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আমাদের কর্মী নুসরাত আক্তারের গায়ে হাত দিয়েছেন ডিসি আমিরুল ইসলাম।
এর আগে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগেও আলোচনায় আসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। গত বছরের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের খুলশী থানায় যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত ও ক্যামেরাপারসন আসাদুজ্জামান লিমনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
পরে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। তৎকালীন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেই তদন্তের ফলাফল এখনো আলোর মুখ দেখেনি।