দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অনুমোদন পেয়েছে দেশের আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। গত ১৩ মে ২০২৬ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই খবরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে পদ্মাপাড়ের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের ব্যারেজটি নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ঘাট থেকে সাতবাড়িয়া পর্যন্ত পদ্মা নদীর ওপর। প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি বড় অবকাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষিজমি ধীরে ধীরে বালুচরে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের মানুষ ব্যারেজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ব্যারেজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এতে অন্তত ২৬টি জেলার কৃষি, সেচ ও পানিসংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর, মাগুরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ সুবিধা বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২৮–২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ধান, পাট, গম ও সবজি উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া নদীভাঙন রোধ, নৌ-যোগাযোগ উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় জেলেরা মনে করছেন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে দেশীয় মাছসহ ইলিশের প্রজননও অনুকূল হবে।
নদীর নাব্যতা বাড়লে নৌপথে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, যা নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নকালে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ব্যারেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরেই কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।