ঢাকার ধামরাই উপজেলার ডেমরান এলাকায় মাটির লিকে পানি যাওয়ায় ভুমিদস্যু ও অবৈধ ভূমি দখলকারীদের হামলা করে প্রজেক্টের পরিচালক (ড্রাইভার) আতাউর রহমানকে পিটিয়ে আহত করে সরকারি সেচ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তিন ফসলী কৃষি জমি পানির অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
রোববার (৮ফ্রেরুয়ারী) রাতে ধামরাই উপজেলার ধামরাই সদর ইউনিয়নের ডেমরান এলাকার পূর্ব চকে এমন ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগি মোঃ আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১০ফ্রেরুয়ারী) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা হলেন,ডেমরান এলাকার আব্দুল আলীম, লিয়াকত আলী, মোবারক হোসেন,মোঃ খায়রুল ইসলাম মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ রবিউল হোসেন বাবুসহ অজ্ঞাত ১০/১২জন। তারা সবাই ডেমরান এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিপ টিউবেলের পানি মাটির লিকে যাওয়ায় সোমবার গভীর রাতে চলমান সরকারি সেচ প্রকল্পে হামলা চালিয়ে অভিযুক্তরা দুটি বৈদ্যুতিক মোটর ভাঙচুর করে। এসময় প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন এবং চালক আতাউর রহমানকে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। হামলার পর থেকে সেচ প্রকল্পটি তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে ড্রাইভার আতাউর রহমান বলেন, রাতে আমি ডিপটিউবেল চালেই। আমি মোটর চালু দিয়ে ঘরে শুয়ে ছিলাম। রাত অনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মাটির লিকের লিয়াকত, আব্দুল আলীমসহ কয়েকজন এসে আমার ডিপ টিউবেলের ঘরের উপরের চাল ভেঙে ঘরে ভিতরে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে এবং মাটির লিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেশিন চালালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ডিপটিউবেলের ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়
প্রজেক্ট ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈদুৎতিক মোটরের ঘরে ভাঙচুর চালায়। এসময় তিনি ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। হামলায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেছেন, মাটির লিকের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেচ প্রকল্প চালানো যাবে না। ফলে সেচ বন্ধ থাকায় এলাকার তিন ফসলী জমিতে ধান চাষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে তাদের কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। সেচ প্রকল্প বন্ধ থাকায় জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। হামলার ঘটনার পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সেচ প্রকল্প চালু ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে বিএ ডিসির কর্মকর্তা মোঃ রোকন উদ্দিন বলেন, আমি সেচ প্রকল্প বন্ধ বিষয়টি শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীব বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। নির্বাচনের কারণে ব্যস্ত আছি। আমি পুলিশকে বলেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। অবৈধ ভূমি দখল ও সেচ প্রকল্পে হামলার ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।