মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা দেড় দশকে বেড়ে ৯ গুণ

কথাভিশন রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ ব্যবস্থা, যা এখন বড় ধরনের আর্থিক চাপ হিসেবে সামনে এসেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক বা না করুক, চুক্তি অনুযায়ী তাদের নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়, আর এই অর্থই ক্যাপাসিটি চার্জ নামে পরিচিত। ফলে অনেক কেন্দ্র বসিয়ে রেখেও সরকারকে অর্থ দিতে হচ্ছে, যা ক্রমেই ব্যয়ের বোঝা বাড়াচ্ছে।
গত দেড় দশকে এই খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। ২০১১–১২ অর্থবছরে যেখানে ইউনিটপ্রতি ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা, ২০১২–১৩ সালে তা বেড়ে ২ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়ায়। এরপর বিভিন্ন ওঠানামার মধ্য দিয়ে ২০১৯–২০ সালে এটি ২ টাকা ৮৫ পয়সা, ২০২২–২৩ সালে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা, ২০২৩–২৪ সালে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৫ টাকা ২৪ পয়সায় পৌঁছে যায়। ভবিষ্যতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এটি আরও বেড়ে ৫ টাকা ৪৬ পয়সা পর্যন্ত যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধানও এই ব্যয়ের পেছনে একটি বড় কারণ। দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা সাধারণত ১৮ হাজার মেগাওয়াটের নিচে এবং গড় উৎপাদন প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা অনেক কেন্দ্রকে অলস অবস্থায় রেখেও ব্যয় বহন করতে বাধ্য করছে সরকারকে।
বর্তমানে দেশে ৭৮টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট। পাশাপাশি সরকারি কেন্দ্র রয়েছে ৫৫টি, যেগুলোর সক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার ৭৫৮ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের বাইরে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও করা হচ্ছে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদন না হলেও চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়, যা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ব্যয়কে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত প্রায় ১৪ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেন্টাল কেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ এক লাখ চার হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে এই খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা অধিকার কর্মীরা এই ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন। তাদের মতে, এটি কার্যত একটি অকার্যকর ও ব্যয়বহুল কাঠামো, যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তারা বলছেন, এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা, অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বন্ধ এবং নীতিগত সংস্কার ছাড়া এই খাতে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও তার বিপরীতে ক্যাপাসিটি চার্জের আর্থিক বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে, যা এখন দেশের বিদ্যুৎ খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *