অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট ১১টি সংস্থার সমন্বিত তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তদন্তের আওতায় থাকা শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো— এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট। প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রধান ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, যৌথ তদন্তে বিভিন্ন অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করেছে বিএফআইইউ এবং আইনি সহায়তা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। প্রতিটি শিল্পগোষ্ঠীকে আলাদাভাবে তদন্ত করা হয়েছে এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছরের ২ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএফআইইউকে যৌথ তদন্ত শুরু করার নির্দেশনা দেয়। পরে ৬ জানুয়ারি তদন্তের কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
তদন্তে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ, ঋণের অর্থের ব্যবহার, ব্যবসায়িক লেনদেন, কর ও শুল্ক পরিশোধের তথ্য, বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার এবং বিদেশে সম্পদ গঠনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এরই মধ্যে তদন্তাধীন অধিকাংশ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে অভিযুক্ত গ্রুপগুলোর সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে আইনি কার্যক্রম সঠিকভাবে এগোলে ধাপে ধাপে সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।