ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এস জানকী আর নেই। শনিবার (১১ জুলাই) ৮৮ বছর বয়সে দক্ষিণ ভারতের এই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সংগীতপ্রেমী ও ভক্তদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালায়ালম, হিন্দিসহ একাধিক ভাষায় হাজারো গান গেয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলেন তিনি। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের মোট ৩৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা দিলেও তিনি সেই সম্মান গ্রহণ করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ সংগীতজীবনের মূল্যায়নে আরও উচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তা অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল।
১৯৩৮ সালের ২৩ এপ্রিল বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে জন্মগ্রহণ করেন এস জানকী। প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা ছাড়াই ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি অনুরাগ গড়ে ওঠে। মাত্র নয় বছর বয়সে প্রথমবার মঞ্চে গান পরিবেশন করে সবার নজর কাড়েন তিনি।
১৯৫৭ সালে তামিল চলচ্চিত্র বিধিয়িন ভিলাইয়াত্তুর মাধ্যমে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। এরপর কয়েক দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কণ্ঠের জাদুতে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে রাজ করেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাছ থেকে মোট ৩৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মভূষণ’ ভূষিত করে। কিন্তু তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। সে সময় স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতীয় সংগীতে তার দীর্ঘ অবদানকে মূল্যায়ন করতে তাঁকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া উচিত ছিল। এবং এ স্বীকৃতি তার অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৫৯ সালে ভি. রামপ্রসাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৭ সালে স্বামীর মৃত্যুর পরও সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র ও মঞ্চে গান গাওয়া থেকে অবসর নিলেও ২০১৮ সালে ভক্তদের অনুরোধে একটি তামিল চলচ্চিত্রের জন্য শেষবারের মতো গান রেকর্ড করেন।
এস জানকীর মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতাঙ্গন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। তার অসংখ্য কালজয়ী গান ভবিষ্যতেও শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।