বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নাম ঘোষণা করেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই দিনে তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।
তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। আগামী ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। জোটের সমর্থনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া হয়েছে।
ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের প্রয়োজন হবে। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের মধ্যে সরাসরি ভোটাভুটির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দেশে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি সংসদীয় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
এবার বিএনপি ও বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে পৃথক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংসদে বিএনপির বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের পাল্লাই ভারী বলে মনে করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।
দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করার সময় মির্জা ফখরুল দলীয় কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তিনি একাধিকবার কারাগারেও যান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।