ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর এলাকায় ৩০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ব্রিজ। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটির দুই পাশে তৈরি হয়নি প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক। ফলে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজে উঠতে ও নামতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষকে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে ৩০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে প্রায় ৪০ ফুট দীর্ঘ মোস্তফা মোল্লা ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ব্রিজ নির্মাণের পর এলাকাবাসীর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার প্রত্যাশা তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ হলেও এর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় পুরো প্রকল্পের সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
চরহরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ব্রিজ নির্মাণের পর এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এর কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে ব্রিজটির সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য জানতে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নুরুন্নাহারের কার্যালয়ে সাংবাদিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তার বক্তব্য পাননি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অফিস সহকারী মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, চরহরিরামপুরের ওই ব্রিজটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিজটি যাতে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ব্রিজটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটিও কার্যকরভাবে মানুষের কাজে আসবে।