মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান

কথাভিশন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। তবে কর্মব্যস্ততা, সফর কিংবা নানা জরুরি পরিস্থিতির কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে আগেই যদি জানা থাকে নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়া সম্ভব হবে না, তাহলে কি ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই পরবর্তী ওয়াক্তের ফরজ নামাজ আদায় করা যাবে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোনো ফরজ নামাজ তার নির্ধারিত ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে আদায় করা যায় না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রত্যেকটির নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যেই তা আদায় করতে হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ।’ (সুরা নিসা: ১০৩)

এই নির্দেশনার আলোকে আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে আসরের ফরজ নামাজ পড়া যাবে না। একইভাবে মাগরিবের সময় হওয়ার আগে মাগরিবের ফরজ আদায় করাও বৈধ নয়। অর্থাৎ কেউ যদি আগে থেকেই নিশ্চিত হন যে কোনো কারণে আসর বা মাগরিবের নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়তে সমস্যা হতে পারে, তবুও ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে সেই নামাজ আদায় করে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে ইসলাম মানুষের বাস্তব পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। তাই কর্মব্যস্ততা, সফর কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজন থাকলে মুসল্লির উচিত আগে থেকেই এমন ব্যবস্থা করা, যাতে নামাজের ওয়াক্তের মধ্যেই ফরজ ইবাদত আদায় করা সম্ভব হয়। কাজের ফাঁকে নামাজের সময় বের করা, প্রয়োজন হলে যাত্রাপথে উপযুক্ত স্থানে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সময় সমন্বয় করা এসবের মাধ্যমে ওয়াক্ত রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত।

কোনো ব্যক্তির ঘুম, ভুলে যাওয়া কিংবা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে নামাজ ছুটে গেলে বিষয়টি ভিন্ন। হাদিসে আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ নামাজ পড়তে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যখনই তার নামাজের কথা মনে হবে, তখনই তা আদায় করবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার নির্দেশও উল্লেখ করা হয়েছে ‘আমার স্মরণে নামাজ কায়েম কর।’ (সুরা ত্বহা: ১৪; সহিহ মুসলিম: ৬৮১)

অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে পরে সেই নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো নামাজ ছুটে গেলে সাধারণভাবে সেটি কাজা হিসেবে আদায় করা হয়। কাজা নামাজ আদায়ের সময় পবিত্রতা ও নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে যে ওয়াক্তের নামাজ ছুটেছে, সেই নামাজের কাজা আদায়ের নিয়ত করতে হবে। এরপর ওই নামাজের নিয়ম অনুযায়ী ফরজ রাকাতগুলো আদায় করতে হবে।

ধরা যাক, কোনো ব্যক্তির ইশার নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়া হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি স্মরণ করলেন। তখন পবিত্রতা অর্জন করে ইশার চার রাকাত ফরজ কাজা আদায়ের নিয়ত করে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করবেন। একইভাবে অন্য কোনো ফরজ নামাজ ছুটে গেলেও তার কাজা আদায়ের বিধান প্রযোজ্য হবে।

তবে নামাজের ওয়াক্ত নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু ব্যস্ততার আশঙ্কায় নামাজের সময় পার করে দেওয়া ঠিক নয়। একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে যত কাজই থাকুক না কেন, নামাজের সময়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনা, সফর কিংবা পারিবারিক ব্যস্ততা কোনোটিই নামাজের নির্ধারিত সময়কে অগ্রাহ্য করার কারণ হওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে সফরের ক্ষেত্রে নামাজ আদায়ের কিছু আলাদা বিধান রয়েছে। তাই সফরে থাকা ব্যক্তিরা তাদের অবস্থান ও সফরের ধরন অনুযায়ী নামাজের বিধান জানতে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নিতে পারেন। একইভাবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে নামাজের সময় নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন আলেমের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে ফরজ নামাজ আদায় করা যায় না। তাই আসরের সময় আসার আগে আসরের নামাজ কিংবা মাগরিবের সময় শুরু হওয়ার আগে মাগরিবের নামাজ পড়ে নেওয়া সঠিক পদ্ধতি নয়। বরং যথাসম্ভব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নামাজ আদায় করতে হবে। কোনো কারণে নামাজ ছুটে গেলে পরবর্তীতে কাজা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

নামাজ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এটি একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নামাজের জন্য সময় নির্ধারণ করা এবং ওয়াক্তের প্রতি সচেতন থাকা একজন মুসলমানের কর্তব্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *