মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৮ মার্চ) রা শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের রুদ্রপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার খাঁন বংশের দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা হারুন খাঁন ও মান্নান খাঁনের সঙ্গে একই বংশের মিজান খাঁনের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মান্নান বন্দুকের বাট দিয়ে মিজানকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মিজানের বাবা খোরশেদ খাঁন বিষয়টি জানতে পেরে মান্নানকে গালিগালাজ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মান্নান তার সহযোগীদের নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রাতের দিকে মিজানের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে সেখানে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকেন। হঠাৎ গুলিবর্ষণে অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মিজানুর রহমান, মিনু বেগম, জয়তন বেগম, কাজল বেগম, ইভা, বন্যা, নুপুর বেগম, আয়ান, ফাহিমা, দোলন, আলামিন, খোরশেদ খাঁন, মোস্তাকিম, ইদ্রিস খাঁন ও সাফি বেগম।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আরও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা এবং স্বজনরা গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অন্তত ১১ জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত জয়তন বেগম ও মিনু বেগমকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে একই বংশের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্র ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন হারুন খাঁন, মান্নান খাঁন ও মহসিন খাঁন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক এবং ৮২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
তিনি আরও জানান, নতুন করে কোনো সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।