২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বনির্ধারিত ছুটির মধ্যে ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে রোববার (৮ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই নির্বাহী আদেশটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারি করেছে। তবে এই ছুটি সকল সেবা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে না। জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কিছু কর্মী এবং যানবাহন ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জনস্বার্থে জরুরি সেবা সচল রাখতে কিছু সেক্টরকে ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন।
চিকিৎসা খাতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত কর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মী এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করবে যে জরুরি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হবে না।
বেঙ্ক এবং আদালত সংক্রান্ত কার্যক্রমেও বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে আর সুপ্রিম কোর্ট আদালতের কার্যক্রম সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
বেসরকারি খাতের শিল্প, কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। সাধারণভাবে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ছুটি মানতে পারে না, তবে নিজেদের নীতিমালা ও শ্রম আইনের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করে থাকে।
বাংলাদেশে সরকারি ছুটি সাধারণত সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা-১৯৫৯ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হলেও জনসাধারণ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি দিকনির্দেশনার মতো কাজ করে।
এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে যে ঈদের ছুটি পালন করা সম্ভব হবে তবে জনমুখী এবং জরুরি সেবা যা দেশের দৈনন্দিন জীবনকে সচল রাখে বিঘ্নিত হবে না।