ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় চুলার গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ স্ত্রীর নাম সুমনা (৪৫) এবং তার স্বামীর নাম বাদশা মিয়া (৬০)। মঙ্গলবার (১০মার্চ) দিনগত রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকায় একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে স্ত্রী সুমনা বাদশার অবস্থা গুরুতর বলে জানাগেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা চালু থাকায় জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কক্ষের জানালার কাঁচসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কক্ষে থাকা গৃহবধূর শরীরের অন্তত ৮৫ভাগ দগ্ধ হয় বলে ডাক্তার সূত্রে জানা যায়। এছাড়া তার স্বামীর দুই হাতসহ অন্তত ২০ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পরপরই সেখানে ছুটে যান নুরুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী তিনি বলেন, আমরা সবাই রোজার মধ্যে ছিলাম, কেউ নামাজে ব্যস্ত, কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখি ঘরের ভিতরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে জানালাগুলো ভেঙে গেছে। জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ ঘটনায় এই বাড়ির মালিক বাদশার হাতে আঘাত লেগেছে এবং তার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা অসীম ঘোষ বলেন, আমি যখন বিকট শব্দটা শুনি, তখনই দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। চুলা চালু থাকার কারণে রুমের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। পরে বাদশার স্ত্রী চা তৈরি করতে চুলা চালু করার সাথে সাথে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাদশা কাকার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ এবং বাদশা ও কাকার হাতও ঝলসে গেছে। আমরা সবাই মিলে তাদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠাই। তখন দেখি কাকাীর শরীর ঝলসে গেছে।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ আল আমিন খান বলেন, আমরা রাত প্রায় ১০টার দিকে খবর পাই একটি বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গ্যাস লাইনের লিকেজ মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। পরে গ্যাসের লাইন ও রাইজারটি বন্ধ করে দিই। তার আগে স্থানীয় লোকজন আমাদের জানান, এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী গুরুতর আহত হয়েছে এবং তার স্বামীর শরীর ঝলসে গেছে। তাদের দুইজনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরের যে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল, সেই দুইটি লাইনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।