মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপলের (এনএএসিপি) এবার সরাসরি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে নজিরবিহীন অবস্থান নিয়েছে।
সংগঠনটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন এবং সংবিধানের Twenty-fifth Amendment to the United States Constitution প্রয়োগের মাধ্যমে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এতটা কঠোর অবস্থান নিল তারা।
এনএএসিপির প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন এক তীব্র ভাষার বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ‘অযোগ্য, অসুস্থ এবং উন্মাদ’ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের কথাবার্তা ও আচরণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা শুধু উদ্বেগজনক নয় বরং বিপজ্জনক।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা কেউ যদি সত্য, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কল্যাণকে উপেক্ষা করেন তাহলে তা পুরো জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ডেরিক জনসনের ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে আর দেরি করার সুযোগ নেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র শুধু অভ্যন্তরীণ সংকটেই নয় বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এনএএসিপি তাদের দাবিতে দুটি সাংবিধানিক পথের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রথমত, কংগ্রেসের মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালু করা। দ্বিতীয়ত সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম বলে মনে করেন তাহলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
সংগঠনটির এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এতদিন নাগরিক অধিকার ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকা এনএএসিপি এবার সরাসরি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বৈধতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই আহ্বান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।