হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পালটা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার ভোরে বাহরাইনের রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানায়। একই সময়ে কুয়েতেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে তারা আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটি এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও ইরানের দাবির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি ছিল সীমিত পরিসরের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান। অন্যদিকে তেহরান এ হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।