ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নয়াদিল্লি বলেছে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণার কারণে এ বিষয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তর সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের পরও ভারতের অবস্থান একই রয়েছে। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় সম্পূর্ণভাবে একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচারিক কাঠামো অনুসরণ করেই নিষ্পত্তি করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা-সংবলিত সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনার ঘোষণার পর তাঁর প্রত্যর্পণ বা প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কোনো আলোচনা চলছে কি না।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের বিষয়ে আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং সেটি আইন অনুযায়ীই মোকাবিলা করা হবে।
তবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে নতুন কোনো কূটনৈতিক অবস্থান বা আলোচনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।