বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিসর। ম্যাচ শেষে পরাজয়ের হতাশার পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার দাবি, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে প্রতিযোগিতায় ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, তাদের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে, যার যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাননি। তার ভাষ্য, এমন সিদ্ধান্ত ন্যায্য ছিল না এবং পুরো পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, যেকোনো মূল্যে মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখার প্রবণতা কাজ করেছে। কারণ এর সঙ্গে বড় ধরনের বিপণন ও বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত।
মিসরের কোচের মতে, মাঠের খেলায় তার দলই ছিল এগিয়ে। কিন্তু ম্যাচের ফলাফলে ফুটবলের বাইরের প্রভাবও ছিল বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবং মেসির উপস্থিতি টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়ায়। তাই রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, ম্যাচে ক্রীড়াসুলভ ন্যায়বিচারের প্রতিফলন দেখা যায়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল মিসর। ১৫তম মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৬৭তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ হয়। তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। শেষ ১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। মিসরের অভিযোগ, এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রেফারির একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর আবেগাপ্লুত হোসাম হাসান দেশবাসী ও আরব বিশ্বের সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলটি সমর্থকদের আনন্দ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে এবং তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্বিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।