গাজীপুরের পূবাইলের কৃষক ফেরদৌস মিয়া আবারও ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। এবার তিনি চাষ করেছেন প্রায় ১০ ফুট লম্বা ডাটা শাক যা স্থানীয় বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বিশাল আকৃতির প্রতিটি ডাটা শাক তিনি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
পূবাইলের সাপমাড়া এলাকায় অবস্থিত তার বাগানে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ডাটা শাক দেখতে, কেউ কিনতে আবার কেউ তার কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আসছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পেঁপে ও অন্যান্য ফসল চাষ করে আসছেন ফেরদৌস মিয়া। তবে গত বছর প্রতিকূল আবহাওয়া ও মানসম্মত বীজের অভাবে তার পেঁপে চাষে বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
প্রায় ৫০০টি চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি নতুন ফসল নিয়ে কাজ শুরু করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার বিশেষ জাতের ডাটা শাকের আবাদ করেন, যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফলতা এনে দিয়েছে।
ফেরদৌস মিয়ার কৃষি কার্যক্রমের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ‘সৌখিন কৃষক’ নামে পরিচালিত তার ফেসবুক পেজে নিয়মিত কৃষিবিষয়ক ভিডিও ও পরামর্শ প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে পেজটির অনুসারী দুই লাখের বেশি। সম্প্রতি তার ডাটা শাকের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন।
দর্শনার্থীদের একজন নজরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখেই তার বাগানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়। বাগানে এসে বিভিন্ন ধরনের সবজি দেখেছেন এবং কিছু কিনেও নিয়েছেন। কৃষিতে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ তাকে মুগ্ধ করেছে।
ফেরদৌস মিয়ার ভাষ্য, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি ডাটা শাকের চাষ করেছিলেন। গরুর মাংসের সঙ্গে রান্না করলে এর স্বাদ ভালো হয় বলে তিনি জানান। ফলন এত ভালো হয়েছে যে প্রতিটি ডাটা শাক ১০০ টাকা করে বিক্রি করেও চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের পর ক্রেতাদের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত জমি থাকলে আরও বড় পরিসরে চাষ করে বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো।
স্থানীয়দের কাছে ‘স্মার্ট কৃষক’ হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস মিয়া ২০১৬ সালে বাণিজ্যিক কৃষিকাজ শুরু করেন। প্রথম বছরেই পেঁপে চাষ করে উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখেন।
পরবর্তী বছরগুলোতে নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেও তিনি কৃষিকাজ থেকে সরে আসেননি। বরং প্রতিবারই নতুন উদ্যোগ নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমানে প্রায় সাত বিঘা জমিতে পেঁপে, কলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করছেন।
ফেরদৌস মিয়া মনে করেন, কৃষিতে সফল হতে হলে ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং সঠিক বীজ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অল্প পরিসরেও পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করলে ভালো আয় করা সম্ভব।
প্রতিকূলতা কাটিয়ে নতুন ফসলের মাধ্যমে সাফল্যের যে নজির তিনি স্থাপন করেছেন তা স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তার উৎপাদিত বিশাল আকৃতির ডাটা শাক এখন শুধু গাজীপুরেই নয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার