ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অপসারণ দাবিতে টানা নবম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাংকটির সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনের এ পর্যায়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল নারী গ্রাহকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, যা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আন্দোলনকারীরা এর আগে টানা আট দিন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও নবম দিনে এসে অবস্থান কর্মসূচির পথ বেছে নেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে শতাধিক নারী গ্রাহক অংশ নেন। পূর্ববর্তী কর্মসূচিগুলোতে পুরুষ গ্রাহকদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও এবার নারী অংশগ্রহণ আন্দোলনের প্রতি সাধারণ আমানতকারীদের উদ্বেগ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তারা তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাদের মতে, একটি বৃহৎ ইসলামী ধারার ব্যাংকের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তির থাকা উচিত,যিনি ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং সুশাসনের বিষয়ে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য।
আন্দোলনকারীরা নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণের পাশাপাশি ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিচার এবং ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জানা গেছে, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই দিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহকদের একটি অংশ এ নিয়োগের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে।
গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের দাবি, ঈদের ছুটির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক এক সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় লাঠিচার্জ, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়, যাতে অন্তত ২৫ জন গ্রাহক আহত হন।
ব্যাংক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিকে ন্যায্য বলে উল্লেখ করছেন। তারা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান পরিবর্তন, ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।