বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের কারাদণ্ড ক্যান্টন ফেয়ার উপলক্ষে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা আবেদন সহজ করল চীনা দূতাবাস শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের অতিরিক্ত ফ্লাইট সাময়িক স্থগিত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ নয়: তথ্য উপদেষ্টা সেনাপ্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন নৌবাহিনী প্রধান ববিতার জন্মদিনে ‘ববিতা সমগ্র’, এক ফ্রেমে রুনা লায়লা, শাকিব খানসহ ১২ তারকা মেয়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের ‘তারা গণতান্ত্রিক দল কি না, তারাই ঠিক করুক’ : মির্জা ফখরুল ছয় মাসে ১৭৭ গণমাধ্যমে ৬৮১টি ভুল তথ্য শনাক্ত, প্রকাশ্যে রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হরমুজ প্রণালিতে ছয় জাহাজের গতিরোধ করল ইরান বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে স্বপ্ন, বিতরণ করা হলো জরুরি খাদ্য সহায়তা ঢাকা দক্ষিণে চমক সাদিক কায়েমকে এগিয়ে রাখল জামায়াত মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে ২৯ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণের ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরে বিভাগীয় পরিচালকের পরিদর্শন মোরেলগঞ্জ ফাউন্ডেশন ঢাকা এর নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রাইটার্স’ ওয়েব বাংলাদেশ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আতাউল হক সিদ্দিকী ও শিশির চাকমা ক্রসফায়ারে’ কাউন্সিলর একরাম হত্যা:শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন নতুন স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায়, দেড় মাসেই নিভে গেল নবদম্পতিসহ তিনটি প্রাণ
Notice :

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা:‘শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশি সদস্যদের অবদান দেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্যও অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেক সদস্য আহত হয়েছেন। শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।

তিনি শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের স্ত্রীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাম্প্রতিক মিশনগুলোতে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত

এ সময় বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, হাইতিতে নতুন একটি শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অতীতের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর একটি বড় আঘাত এসেছিল, যার পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বাহিনীর সদস্যদের চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষা মিশনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনও নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও মানবতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *