কক্সবাজারে বৈরী আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। একদিকে অনিয়মিত বৃষ্টি, অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং এই দুইয়ের চাপে দেশের প্রধান সমুদ্রসৈকত এলাকায় পর্যটক আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। হোটেল-মোটেলগুলোতে বুকিং বাতিল হচ্ছে, অনেক পর্যটক আগেভাগেই সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরছেন। ফলে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও ইনানী পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধারণ দিনের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম। বিচ বাইক, ঘোড়ায় চড়া, প্যারাসেইলিংসহ বিভিন্ন বিনোদন কার্যক্রমেও আগের মতো ভিড় নেই। হোটেল-রিসোর্টগুলোও অনেকটাই ফাঁকা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। চাহিদা-সরবরাহের এই ঘাটতির কারণে শহরজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রান্সফরমারেও ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।
পিডিবি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সীমিত সরবরাহের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। তবে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জামিল জানান, কয়েকদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলেও আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে আগেভাগেই ফিরে যেতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পর্যটক রাহাত ইসলামও। তিনি বলেন, হোটেলে বিদ্যুৎ ও সেবার অনিয়মিত অবস্থা ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে ব্যাহত করছে।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে হাজারো পর্যটক তাদের সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন বা বুকিং বাতিল করেছেন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় পর্যটন খাত। তাদের হিসাব অনুযায়ী, একজন পর্যটক গড়ে কয়েক দিনে যে ব্যয় করেন, তাতে সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক পর্যটক এক রাতের বেশি থাকতে চাইছেন না, কেউ কেউ মাঝপথে ফিরে যাচ্ছেন। এতে হোটেল খাতে আয় কমে গেছে, কর্মসংস্থান নির্ভর বহু মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
চেম্বার অব কমার্সের সাবেক নেতারা মনে করছেন, পর্যটন খাত কেবল হোটেল ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পরিবহন, রেস্তোরাঁ, দোকানপাটসহ বহু খাত এর সঙ্গে যুক্ত। পর্যটক কমলে তার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়ে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মেঘমালার কারণে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি রয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও আবহাওয়ার এই অনিশ্চয়তা দ্রুত না কাটলে কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।