আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় মঙ্গলবার স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৮ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এ দর ১ শতাংশেরও বেশি কমেছিল।
একই সময়ে আগস্ট মাসের সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা কাজ করছে। এর ফলে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে সরে আসছেন, যা স্বর্ণের বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরজেও ফিউচার্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন বলেন, মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের আগে বাজারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ ও রূপার বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থানের পর এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে চলতি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকের দিকে।
বুধবার ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার প্রযোজক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব তথ্য ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জার্মানভিত্তিক কমার্সব্যাংক তাদের এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি হলে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার আভাস এবং তেলের দর নিম্নমুখী হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক কারণ এটি কোনো সুদ প্রদান করে না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা পাওয়া সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫.৯৮ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৩৬.০৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৪.৯৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।