ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালীর কাছে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে একটি চীনা আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এটি মূলত সমুদ্র পর্যবেক্ষণ বা গবেষণার কাজে ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তিগত যন্ত্র হলেওএর ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার সময় প্রায় লম্বকের কয়েক কিলোমিটার উত্তরে সমুদ্রের গভীরে টর্পেডোর মতো একটি বস্তু দেখতে পান। তাদের সন্দেহ হলে বস্তুটি উপকূলে টেনে আনা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছে যে, ড্রোনটিতে কোনও বিস্ফোরক বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ নেই।
ড্রোনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৭ মিটার (১২ ফুট) এবং ব্যাসার্ধ প্রায় ০.৭ মিটার। সিলিন্ডার আকৃতির এই যন্ত্রটিতে বিভিন্ন সেন্সর এবং প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ রয়েছে, যা সমুদ্রের গভীরতা, তাপমাত্রা, স্রোত এবং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আন্ডারওয়াটার ড্রোন সাধারণত সাবমেরিন বা বড় সামরিক জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা সমুদ্রের ডেটা সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়। বস্তুর উপর CSIC লেবেল দেখা গেছে যা চীনা শিপবিল্ডিং সংস্থা চায়না শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
লম্বক প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগরের দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এখানে বড় যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। সেই কারণে এই এলাকায় কোনও অননুমোদিত ডিভাইস পাওয়া গেলে তা কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার নৌসেনা (TNI AL) ড্রোনটি সংগ্রহ করে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। তারা এটি কোন দেশ বা সংস্থার, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার উপকরণ রয়েছে তা নির্ধারণে কাজ করছে। নৌসেনা জানিয়েছে, এই ধরনের অননুমোদিত ডিভাইস ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় রাখা অনুমোদিত নয় এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিভাইস সমুদ্রের তলদেশ, স্রোত এবং অন্যান্য পরিবেশগত ডেটা সংগ্রহ করতে পারে। ভবিষ্যতে এই ডেটা সামরিক বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই কারণে, লম্বক প্রণালীর মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চীনা আন্ডারওয়াটার ড্রোন পাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব পেয়েছে।