-মিজানুর রহমান
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হলে মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ অপরিহার্য। আর এই মূল্যবোধ গঠনের প্রধান মাধ্যম হলো নৈতিক শিক্ষা। সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, কারণ নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সত্যবাদিতা, সততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা, মানবতা ও ন্যায়পরায়ণতার মতো গুণাবলিতে উদ্বুদ্ধ করে। নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি শুধু নিজের কল্যাণই চিন্তা করে না, বরং সমাজ ও দেশের মঙ্গলেও কাজ করে।

বর্তমান সময়ে সমাজে যে চুরি, দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, সহিংসতা, প্রতারণা ও অসহিষ্ণুতার বিস্তার ঘটছে, তার অন্যতম কারণ নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুললেও নৈতিকতার অভাব থাকলে সেই জ্ঞান সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। পরিবার হলো নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা। শিশুরা পরিবার থেকেই শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও মানবিকতা শেখে। এরপর বিদ্যালয়, সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নৈতিক শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ অন্যের অধিকারকে সম্মান করে, আইন মেনে চলে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে সমাজে অপরাধ কমে যায় এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।
নৈতিক শিক্ষা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে এনে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করে। একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে সম্ভব নয়; নৈতিকভাবে উন্নত নাগরিক ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সর্বোপরি বলা যায়, নৈতিক শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প সত্যিই নেই।