দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ফলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে দেখা দিতে পারে হিট স্ট্রোক যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক শুধু একটি সাধারণ অসুস্থতা নয় বরং এটি একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। যখন শরীর অতিরিক্ত তাপ সহ্য করতে পারে না, তখন মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন।
তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, পথচারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ। এছাড়া দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান করা কিংবা পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণেও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
হিট স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব এবং অস্বাভাবিক আচরণ। পরিস্থিতি গুরুতর হলে আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারাতে পারেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বহু মানুষ। সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিট স্ট্রোককে অবহেলা করার সুযোগ নেই। গরমের এই সময়ে নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া গেলে হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হিট স্ট্রোক এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিই পারে এই নীরব ঘাতকের ঝুঁকি কমাতে।