গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একই কারখানায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার এমন ঘটনা এবং সম্প্রতি এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর পর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে কর্মঘণ্টা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন শ্রমিক মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, পেটে অস্বস্তি ও বমি বমি ভাব অনুভব করে উৎপাদন ফ্লোরে পড়ে যান। পরে একে একে আরও শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের বিভিন্ন যানবাহনে করে মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে সহকর্মী লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই কর্মপরিবেশ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরপর দুই দিন একই ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দে জানান, কাজ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর শ্রমিকরা অসুস্থ হতে শুরু করেন। এ সময় কিছু শ্রমিকের মধ্যে জ্বিনে ভর করার গুজব ছড়িয়ে পড়লে কারখানায় কয়েকটি মসজিদের ইমাম এনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। তবে শ্রমিকদের একটি অংশের দাবি, কুসংস্কারের ব্যাখ্যার পরিবর্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান করা উচিত।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কারখানার প্রধান ফটকে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণেও কারখানার লোকজন বাধা দিয়েছেন বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘ম্যাস হিস্টেরিয়া’ বা ‘ম্যাস প্যানিক ডিসঅর্ডার’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি নিশ্চিত হতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং তদন্ত করা হবে। তিনি জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ ভয়, মানসিক চাপ বা গুজবের প্রভাবে একসঙ্গে অনেক মানুষ একই ধরনের শারীরিক উপসর্গ অনুভব করতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অসুস্থতার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসেন জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শ্রমিক নারী। তাদের মধ্যে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন রাতের শিফটে কাজ করার সময় একই কারখানার সুইং অপারেটর লিজা আক্তারের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এরপর ৭ ও ৮ জুলাই পরপর দুই দিন একই ফ্লোরে একাধিক শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় কারখানাজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন এবং বারবার এমন ঘটনা কেন ঘটছে, তার সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।