ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, এর আগেই জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে একই পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। ফলে দুই দলের অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে আসিফ মাহমুদের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতের আপত্তি ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি সেই নির্বাচনে অংশ নেননি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে এনসিপির একাধিক সূত্রের দাবি।
এনসিপির নেতারা বলছেন, আপাতত দল এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কোনো জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
অন্যদিকে গত ২২ জুন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত যদি শেষ পর্যন্ত সাদিক কায়েমকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী করে তাহলে আসিফ মাহমুদের জন্য নির্বাচনী সমীকরণ নতুনভাবে তৈরি হবে। তিনি এনসিপির প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন, নাকি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বা তার আগে প্রয়োজন হলে বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। তবে বর্তমানে প্রতিটি দলই নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদও জানান, তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তার মতে, তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক সমঝোতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অধিকাংশ এলাকাতেই নিজস্ব প্রার্থী দিতে চায়।