সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ধামরাইয়ে স্বামীর নির্যাতনে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, ২-৫ দিনের মধ্যে কমতে পারে দাম প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়বে: প্রতিমন্ত্রী টুকু ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘১৭ বছরের আন্দোলনের ফল’—৫ আগস্টকে কেন ‘অলৌকিক’ বললেন মির্জা ফখরুল সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকরা বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলে পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পাশে অস্ট্রেলিয়া, ঘোষণা ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ কনসার্ট, দেশে মুক্তি পেল কনার নতুন গান ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর ৫৫ বছর, প্রকাশ পেল ‘দ্য লিগ্যাসি’ বরিশালে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ, একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ ধামরাইয়ে ১০ চাকা ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ধামরাইয়ে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা কুড়িগ্রামে সাঁড়াশি অভিযানে ১৭৪টি ‘চায়না দুয়ারি’ ও ৫২টি কারেন্ট জাল ভস্মীভূত আনসার সদস্যদের সাহসিকতায় বড় ধরনের চুরি নস্যাৎ, আটক ৩ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার, চট্টগ্রামে স্বস্তির বার্তা জুলাই আন্দোলন জাতীয় ঐক্যের ফল : সেতুমন্ত্রী গাজীপুরে একের পর এক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের কারাদণ্ড
Notice :

‘১৭ বছরের আন্দোলনের ফল’—৫ আগস্টকে কেন ‘অলৌকিক’ বললেন মির্জা ফখরুল

বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের দিন। টানা ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সেদিন পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তুলে ধরেছেন সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ, সেনাসদরের আলোচনা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেপথ্য এবং আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের নানা অজানা দিক।

মির্জা ফখরুল জানান, ৫ আগস্ট সকাল পর্যন্ত তিনি নিজ বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন। এর আগে থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। দুপুরের দিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবরের মাধ্যমে সেনাপ্রধানের বার্তা পান তিনি। পরে সেনাপ্রধান সরাসরি যোগাযোগ করে জানান, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন।

রাজধানীর সড়কজুড়ে তখন লাখো মানুষের ঢল। স্বাভাবিকভাবে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে সেনাবাহিনীর পাঠানো গাড়িতে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে সেনাসদরে যান মির্জা ফখরুল। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে দলের অবস্থান নির্ধারণ করেন।

সেনাসদরের বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব এলেও বিএনপি শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাবই সমর্থন করেন।

তিনি আরও বলেন, সেনাপ্রধান পুরো পরিস্থিতিকে সংঘাতমুক্ত রেখে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বৈঠক চলাকালেই শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর আসে। সেই মুহূর্তের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর ঘটনাটি তাদের কাছে যেন অবিশ্বাস্য, প্রায় অলৌকিক এক অভিজ্ঞতা ছিল।

সেনাসদর থেকে বঙ্গভবনে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল। পথে পথে বিজয়ের আনন্দে উচ্ছ্বসিত মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যান্টনমেন্টের ফটকেই রাজনৈতিক নেতাদের জনতার উদ্দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে হয়েছিল।

বঙ্গভবনের আলোচনায় প্রথমেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেন মির্জা ফখরুল। তার দাবি, সেনাপ্রধান এ প্রস্তাবে সম্মতি জানান এবং রাষ্ট্রপতিও এতে আপত্তি করেননি।

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রথমে রাজনৈতিক দল নয়, ছাত্রনেতারাই প্রস্তাব করেছিলেন। বিএনপি সেই প্রস্তাবে আপত্তি না জানিয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেয়।

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আরও দাবি করেন, আন্দোলনের পুরো সময় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন নেতা বিভিন্ন সময়ে তার বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থান পরিবর্তন, গোপন যোগাযোগ এবং সতর্কতার মধ্য দিয়েই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও জানান, ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট আয়োজনের পরামর্শও তিনি ছাত্রনেতাদের দিয়েছিলেন। তার মতে, কর্মসূচি পিছিয়ে গেলে আন্দোলনের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য উপদেষ্টাদের একটি তালিকাও ছাত্রনেতারা বিএনপির কাছে নিয়ে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। পরে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে বিএনপি তাদের মতামতও জানায়।

আন্দোলনের সময় গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়াতে বারবার গাড়ি বদল করে বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করতে হতো। তার ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনৈতিক কার্যক্রমের মতো পরিচালিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল জানান, এসব সমন্বয় বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি ও নজরুল ইসলাম খান অংশ নিতেন। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সময়ভেদে ডা. শফিকুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, আবদুল হালিমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত থাকতেন। তার দাবি, জুলাই আন্দোলনের পুরো সময়জুড়েই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক সমন্বয় বজায় ছিল।

গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর সংকটে পড়ে। ফলে একটি গণ-অভ্যুত্থানের পরই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, শিক্ষা খাতেও নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত তদবির ও অর্থের প্রস্তাব পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে উদ্বিগ্ন করেছে বলেও জানান।

মির্জা ফখরুলের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতন নয়; এটি রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *