ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরকার তাকে স্বাগত জানাবে কারণ সরকার তার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার (জাস্টিস) ও ইনসাফ নিশ্চিত করতে চায়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার শুরু থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং এ বিষয়ে ভারতের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই। তবে তিনি যদি দেশে আসেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাব। কারণ আমরা জাস্টিস ও ইনসাফ নিশ্চিত করতে চাই।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আদালতে চলমান মামলাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। তিনি যদি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের রায়ও কার্যকর হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলে বিশ্বের যেকোনো আইনজীবীকে তার পক্ষে নিয়োগ দিতে পারবেন। বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক রাখা, ভিডিও ধারণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের স্বচ্ছতার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকার কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে নয়, আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে সরকার কোনো কূটনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছে না বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চায় এবং যথাযথ মর্যাদায় জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করবে। তার ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপিরও ভূমিকা ছিল।
ব্রিফিংয়ে জাহেদ উর রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং যে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।