বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদারে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষিত অর্থায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মানবিক সেবা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জুলিয়ান হিল বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং মিয়ানমার ও বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই, আর এজন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলমান এই সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নতুন সহায়তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের অব্যাহত সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও এ সহায়তা ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ। তাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন এবং খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয় ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিনের অর্থসংকটের কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনযাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।