ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে গত কয়েকদিনে জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির লাইন আগের চেয়ে দ্বিগুণ লম্বা হয়ে গেছে। মহাখালী, গুলশান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, মজুত পর্যাপ্ত এবং এই অতিরিক্ত চাহিদা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
গত অর্থবছরে দেশে অকটেনের মোট বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার টন। এ হিসাবে দৈনিক চাহিদা গড়ে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। কিন্তু ১ থেকে ৪ মার্চের হিসাব অনুযায়ী দৈনিক চাহিদা ২ হাজার টনের বেশি। পেট্রলেও একই চিত্র—দৈনিক গড় চাহিদা ১ হাজার ৩০০ টন হলেও আতঙ্কিত কেনাকাটার কারণে ২ হাজার ৩০০ টন বিক্রি হয়েছে।
বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, দেশের অকটেনের মজুত বর্তমানে ২৩,০৫৫ টন। দৈনিক ৯১৩ টন সরবরাহ করলে এই পরিমাণ তেল ২৫ দিন চলবে। পেট্রলের মজুত ১৫,৫১৭ টন যা দৈনিক ১,০৭০ টন সরবরাহের মাধ্যমে ১৫ দিন পর্যাপ্ত। ডিজেলের মজুত ১,৬১,৮৮৬ টন, যা দৈনিক ৯,০২২ লিটার সরবরাহে ১৮ দিন চলবে।
সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং বেসরকারি শোধনাগার থেকে নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ মাসে আরও ৫০ হাজার টন অকটেন ও ৫০ হাজার টন ডিজেল মজুত যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
মোটরসাইকেল প্রতি দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কার ১০ লিটার, এবং বাস ও ট্রাকের জন্যও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অপচয় ও আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্প্রতি ইরানে হামলা শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, দাম বাড়ছে। এতে দেশে আতঙ্কের কেনাকাটা শুরু হয়েছে।
তবে বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় উৎপাদন, শোধনাগার এবং আমদানির সংমিশ্রণে সরবরাহে ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মজুত আছে কিন্তু যুদ্ধ কবে শেষ হবে কেউ জানে না। তাই মানুষ আগে থেকেই কিছু সঞ্চয় রাখছে। তবে সরবরাহ যথেষ্ট।
শুক্রবার ও শনিবার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছু স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার অতিরিক্ত বিক্রির কারণে তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় দুপুরের পর বিক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। তবে রবিবার সকালে নতুন সরবরাহ শুরু হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল সরবরাহে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। অপচয় রোধ ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি। মানুষকে সীমিত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলের মজুত পর্যাপ্ত। আতঙ্কিত কেনাকাটা চাহিদা দ্বিগুণ করেছে। বিপিসি সীমা নির্ধারণ করে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বাড়লেও দেশের সরবরাহ স্থিতিশীল। নাগরিকদের সচেতনতা ও সীমিত ব্যবহারই সমাধান।