শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রতিটি নাগরিকের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই’ : মির্জা ফখরুল সব নাগরিককে বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে : অর্থমন্ত্রী মোড়েলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত পাতলী খালের পুন:খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এবার বিদায় রাজ্যসভা থেকে কোয়েল মল্লিকের ফাহিমার জন্য ন্যায়বিচার চাই: রোটারিয়ান ড. মীর শাহ আলম সাইবার সুরক্ষা আইনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, ভুয়া কনটেন্ট অপসারণে আসছে নতুন বিধান বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৯ হাজার ২০১ প্রার্থী প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র সালমান শাহর মাকে হুমকির অভিযোগ: কী বললেন অভিনেতা শিবা শানু? বাজেটে সুশাসনের রূপরেখা না থাকায় হতাশ টিআইবি আদ-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নয় অসন্তুষ্ট সরকার চলতি মাসেই ইনু-হানিফের মামলার রায়ের প্রত্যাশা চিফ প্রসিকিউটরের ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণে জোহানেসবার্গে নিহত ১২, আহত ৯ ৫৩ কোটি টাকার বিনামূল্যে চারা ও সার বিতরণ করবে সরকার চা বিক্রেতার দাবি ঘিরে তোলপাড়, হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়ে নতুন বিতর্ক স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট, ২৫ লাখ মানুষের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ তিন মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যে মিলবে স্বস্তি, কোথায় বাড়বে খরচ:নিত্যপণ্য থেকে প্রযুক্তি খাতে করছাড়, সিগারেট-রড-বিলাসপণ্যে বাড়ছে চাপ
Notice :

আইসিইউতে তাজিমের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা খানম

বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। শিশুর এই অসহায় অবস্থার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের। পরে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে জেলা প্রশাসক নিজে তাজিমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুর চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও চিকিৎসা ব্যয় পুরোপুরি বহন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের হামের আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন৷ পাশাপাশি আইসিইউতে চিকিৎসারত আরেক শিশুর দায়িত্ব নেন তিনি৷

জেলা প্রশাসক বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না৷ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা রয়েছে৷

হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে ফরিদা খানম বলেন, প্রতিটি শিশুই আমাদের সন্তান। একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি জেলা প্রশাসক; আমি তো মা-ও৷ প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকেও ব্যথিত করে৷ যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে৷

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিজ ফরিদা খানম বলেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকার আওতায় আনতে হবে।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের সময়মতো এমআর/হাম টিকা নিশ্চিত করুন। হাসপাতালে রোগীর চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রস্তুতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবার যেন চিকিৎসাসেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ঢাকা সবসময় অসহায় ও দুস্থ রোগীদের বিভিন্ন সময়ে সহায়তা দিয়ে আসছে।

তিনি জানান, পরিদর্শনের সময় এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সন্তানের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। অর্থাভাবে পরিবারটি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছিল। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছি৷ এবং এই বাচ্চার চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া নরসিংদী থেকে আসা তামজিদের চিকিৎসার জন্যও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷ ভবিষ্যতেও তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের পরিবারে। প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন, আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয় তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। কীভাবে আইসিইউর খরচ দেব, সেই চিন্তায় দিশেহারা ছিলাম। এমন সময়ে ডিসি আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।

শিশু তামজিদের মা শাহিনুর বলেন, ডিসি আপা যে চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছে সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম৷ কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন তাতে নতুন করে বাচ্চাটা হয়তো আলোর মুখ দেখবে৷


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *