নরসিংদীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দেড় বছরের ছেলেকে হারিয়ে লাশ কাঁধে নিয়ে রেললাইন পার হতে হয়েছে এক পিতা সুজন মিয়াকে। তার সঙ্গে ছিল জীবিত আরেক সন্তান ও কিছু শপিং ব্যাগ। কিন্তু আশপাশে ভিড় থাকলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি—অভিযোগ তার।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে। ঈদের কেনাকাটা শেষে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং দেড় বছরের ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেম নিহত হন।
রোববার (১ জুন) কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, ট্রেন আসার সময় তারা বুঝতে পারেননি। হঠাৎ ট্রেনের সামনে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
তিনি বলেন, “আমি কাঁধে স্ত্রীর লাশ আর বুকে ছেলের লাশ নিয়ে একাই রেললাইন পার হয়েছি। পাশে শত শত মানুষ ছিল, কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। সবাই শুধু ভিডিও আর টিকটক করছিল।”
দুর্ঘটনার পর তাকে জীবিত সন্তানকে নিয়ে এবং দুই লাশসহ একা পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মানবিক সহায়তার পরিবর্তে ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হলেও সাহায্যের হাত বাড়ানো খুবই কম ছিল।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ দিলীপ কুমার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরে নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।