মৌলভীবাজারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে নির্ধারিত সময়ের আগে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। যারা বিএনপি সরকারকে পাঁচ বছর সময় দিতে চায় না, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে থাকা রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য এই সময় প্রয়োজন। কিন্তু কিছু মহল শুরু থেকেই সরকারকে কাজের সুযোগ না দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে যারা আজ বড় বড় কথা বলছে, তাদের অনেককেই তখন মাঠে দেখা যায়নি। বরং আন্দোলন-সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম কিংবা মিথ্যা মামলার ভুক্তভোগী হয়েছেন, তাদের বড় অংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী-সমর্থক।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার জন্য। অথচ কেউ কেউ প্রশ্ন তোলে—সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে। এসব প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে দেশের বিপুল সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচিত হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দেশের সম্পদ দেশের মধ্যেই সংরক্ষিত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। জনগণ যেমন দেশকে স্বাধীন করেছে, তেমনি স্বৈরাচারমুক্তও করেছে। এখন দেশ গঠনের দায়িত্বও জনগণের সঙ্গে সরকারকে ভাগাভাগি করে নিতে হবে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শ্রম ও অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার শিক্ষা, উন্নয়ন, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করবে; পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, হুইপ জি কে গৌছ, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে ভার্চুয়ালি দেশের ২০টি জেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এবং সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।