দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়েছে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে সকাল থেকেই রাঙ্গামাটির বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ ঘাটে দেখা গেছে ব্যস্ততা। জেলে ও শ্রমিকেরা মাছ ধরার নৌকা ঘাটে বেঁধে রাখছেন। ব্যবসায়ীরা সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন। বরফকলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হ্রদের পানি দ্রুত কমে যাওয়া এবং প্রজনন মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এবার নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি জানিয়েছে, দেশের কার্পজাতীয় মাছের অন্যতম প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র কাপ্তাই হ্রদে মা মাছ রক্ষা এবং পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। হ্রদে নিয়মিত টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। শুক্রবার রাত ১২টার আগে ধরা মাছ শনিবার বিকেল ৪টার মধ্যে পরিবহন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এ তিন মাস নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে হ্রদনির্ভর জেলে পরিবারগুলোর জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২২ কোটির বেশি টাকা যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মাছ আহরণ হয়েছিল প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব আয় ছিল ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে হ্রদের মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।