পার্বত্য চট্টগ্রামে চিকিৎসা সেবা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। তিনি বলেছেন, দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় কোনো ত্রুটি থাকা চলবে না।
কিন্তু মন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরও রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী দুর্গম ইউনিয়নগুলোতে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে আজও চিকিৎসা, যোগাযোগ ও মৌলিক সেবা অনেকটাই অনুপস্থিত।
রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের সত্তা এলাকা, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সীমান্তে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস।
এই জনপদ যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। একদিকে পাহাড়ি দুর্গম পথ, অন্যদিকে বর্ষায় ভয়াবহ সত্তা খালের ভাঙন সব মিলিয়ে জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে সত্তা খালের দুই পাশ ভেঙে বসতি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে খাল প্রায় পানিশূন্য থাকে।
২০২১ সালে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডে তোলা হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন অসুস্থ রোগীকে ১২ দিন ধরে প্লাস্টিক চেয়ার ও বাঁশের ‘দোলা’ বানিয়ে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এ দৃশ্য আবারও পাহাড়ের চিকিৎসা সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
লক্ষ্মীছড়ির সাবেক চেয়ারম্যান সুপার জ্যেতি চাকমা বলেন, এই সীমান্ত এলাকার মানুষ কি রাষ্ট্রের নাগরিক নয়? রোগীকে কাঁধে করে ১০ কিলোমিটার পথ যেতে হয়এটা ২০২৬ সালে এসে অগ্রহণযোগ্য। এখানে হাসপাতাল ও সড়ক জরুরি।
ফটিকছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ধন কুমার চাকমা বলেন, তিন জেলার সীমান্ত হওয়ায় আমরা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছি। কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। আলাদা উন্নয়ন প্রকল্প দরকার।
বর্মাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশুতোষ চাকমা বলেন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
শিক্ষার্থী চম্পা চাকমা বলেন, আমরা অন্ধকারে আছি। দ্রুত হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও রাস্তা চাই।
মন্ত্রীর উন্নয়ন আশ্বাসের মধ্যেও পাহাড়ের এই সীমান্তবর্তী জনপদ এখনও মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের প্রশ্ন কবে মিলবে চিকিৎসা, কবে আসবে বিদ্যুৎ, আর কবে শেষ হবে এই ‘অনাথ’ জনপদের অপেক্ষা?