গত২৩ এপ্রিল টাকা ও স্বর্ণালংকার না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং মুখমন্ডলে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চত করা হয়। নাহিদার হত্যাকারী গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করেছে শামীম হোসেন ওরফে স্বপন (৩৫) নামের খুঁনি। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। এ ঘাতক ওই পরীক্ষার্থীর একই ফ্ল্যাটের পাশের রুমে স্ত্রী নিয়ে ভাড়া থাকত।
নিহত নাহিদা আক্তার ধামরাই পৌরশহরের পশ্চিম লাকুরিয়াপাড়া এলাকার মোঃ নুর হোসেনের মেয়ে। নাহিদা নানীর সাথে সাব্বিরের ৫ম তলা বাড়ীর নিচ তলা একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছি সেন্টাল স্কুলে পড়া শোনা করতেন। সে ধামরাই সেন্টাল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল।
জানা যায়, শামীম ওরফে স্বপন রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন এবং তার স্ত্রী স্নোটেক্স গার্মেন্টস এ চাকরি করেন। শামীম অনলাইন জুয়া খেলে নিজের টাকা শেষ করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ঋণ হয়ে পড়ে। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) সকালে নাহিদার নানীর কাছে টাকা চান শামীম। কিন্তু নাহিদার নানী দেলোয়ারা বেগম তাকে টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। এরপর নাহিদা এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে বাসায় আসলে শামীম নাহিদার কাছে টাকা ধার চায়। নাহিদা শামীমকে বলে আমার কাছে টাকা নাইা। এরপর নাহিদার নানী দুধ আনতে বাহিরে গেলে শামীম সুযোগ বুঝে বিকেল ৫টার দিকে নাহিদার ঘরে ঢুকে প্রথমে ওড়না দিয়ে নাহিদার গলায় পেচিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে গলায় পোচ দিয়ে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে শিল দিয়ে কপালে আঘাত করে থেতলে দিয়ে নাহিদার কানে স্বর্ণের দোল ও গলার চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়।
নানী দেলোয়ারা বেগম বলেন, নাহিদার মা লিজা বিদেশ থাকায় নাহিদাকে নিয়ে সাব্বির হোসেনের বাড়ীতে ভাড়া থাকি। বিকেল সাড়ে ৪টার সময় নাহিদাকে ঘরে রেখে দুধ আনতে বাহিরে যায়। অনুমান এক থেকে দেড় ঘন্টা পর বাসায় আসিয়া দেখি ঘরের দরজা খোলা এবং নাহিদা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে৷ এই সময় আমি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন দৌড়িয়ে আসে। নাহিদাকে উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।