ঢাকার ধামরাইয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগে প্রেমিক যুগলকে জুতার মালা পরিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্থানীয়রা মধ্যেযুগীয় কায়দায় রাতভর নির্যাতন ও জুতা পেটা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঐ প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
শুক্রবার (১০এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল গ্রামের এমন ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার এএসআই মোঃ মুনছের আলী। নিরযাতনের প্রায় আধা মিনিটের এই ভিডিও ক্লীপটি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই ঘটনাটি দেখতে ভীড় জমায় স্থানীয় জনতা।
স্থানীয়রা জানান, তিন দিন আগে কান্দিকুল গ্রামের গৃহবধূ মনিকা রানী সরকার একই গ্রামের সঞ্জয়ের হাত ধরে প্রেমের টানে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।পরে গতকাল শুক্রবার রাতে নবাবগঞ্জ থেকে মনিকা রানীর স্বামী স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নবাবগঞ্জ থেকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর রাতেই মনিকার স্বামী ও স্থানীয় লোকজন তাদের গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। এছাড়া সঞ্জয়ের সাথে থাকা ১৭হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় আজম নামে এক যুবক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানা হেফজতে নেয়।
এই বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ আবুল কালাম বলেন, প্রেমিক যুগলকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে রেখে থানা পুলিশেকে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার থানায় নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে সঞ্জয়ের মা রেনু সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে দেশে আইন আছে। সেই আইনে তাদের বিচার হবে। আমার ছেলেকে যারা এমন নির্যাতন করেছে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।
এই বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান সাংবাদিকদের জানান, প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।