যশোরের শার্শা উপজেলায় কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে ড্রাগন চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করে শীতকালে ও অমৌসুমে ড্রাগনের উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা আবেদুর রহমান আধুনিক ইনডোর লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিপ্লব ঘটিয়েছেন যা শার্শার কৃষি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাগানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং ভোর ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় কৃত্রিম আলো জ্বালানো হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং ফুল ধরার হার বেড়ে যায়।
এ আলোকসজ্জায় বাগানটি শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্র নয় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছ আর মাথার ওপরে এলইডি আলো মাঠজুড়ে এক চোখ ধাঁধানো দৃশ্য তৈরি করে।
আবেদুর রহমান জানান, প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করি। শীতকালীন অমৌসুমে উৎপাদন নিশ্চিত করতে লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা চালু করেছি। সাধারণত ভরা মৌসুমে যে দাম পাওয়া যায় অমৌসুমে ফলন ধরালে কয়েক গুণ বেশি লাভ হয়।
শীতকালে দিনের ছোট দৈর্ঘ্য ও কুয়াশার কারণে সূর্যের আলোর অভাব হয় যা ফুল ও ফল ধরাকে প্রভাবিত করে। এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তুলতে আবেদুর ১০ বিঘার বাগানে শত শত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। আলোর ব্যবস্থায় গাছগুলো ফুল ধরতে শুরু করে এবং ফলন বেড়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আর্টিফিসিয়াল লাইটিং ব্যবহারের মাধ্যমে অসময়ে ড্রাগন উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
বাগানটি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আলোয় সজ্জিত ড্রাগন বাগানটি সত্যিই চোখ ধাঁধানো। এলাকা পুরো আলোকিত হয়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে।
ড্রাগন চাষে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি শার্শার কৃষিখাতের সম্ভাবনাকে প্রসারিত করছে, চাষিরা লাভবান হচ্ছেন এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।