বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এ বছর তালগাছের প্রচুর ফলন শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার ধারে, খেতের সীমানায় এবং বসতভিটায় থাকা তালগাছগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে ফসলি ফলন হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, মোল্লাহাটে বর্তমানে ফলন্ত তালগাছের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০০টি। প্রতিটি গাছে গড়ে ১৫ থেকে ১৮টি কাদি এবং প্রতিটি কাদিতে গড়ে ১৫টি তাল আছে। হিসাব অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০০টি তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি তাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে মাঠ থেকে প্রতিপিসতাল বিক্রি হচ্ছে ২ টাকায়, আর ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাব অনুযায়ী, মোল্লাহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সংযোজন ঘটছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, তালগাছের তেমন কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই ফলন হয় এবং খরচ ছাড়াই প্রতিবছর ভালো আয় পাওয়া যায়। ফলে অনেকেই এখন তালগাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মোল্লাহাটের তাল স্বাদ ও মানের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গত ১২ বছর ধরে প্রায় ৩ হাজার তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছর সরকারি প্রণোদনা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে।
মোল্লাহাট উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, “তাল অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় মানবদেহের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তালভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো গেলে ভবিষ্যতে মোল্লাহাট এটিকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।