পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দিনের বেলা দোকান বন্ধ রেখে রাতের আঁধারে গোপনে বাড়ির ভেতর বসে পেট্রোল ও অকটেন চড়া দামে বিক্রি করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এলাকায় মাত্র একটি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। সেখানে মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হয়, তাও নিয়মিত পাওয়া যায় না। এই সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি লিটার তেল ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা মোঃ ইসা জানান, “তেল সংকটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে আমার মোটরসাইকেল অচল হয়ে আছে। কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ৭ কিলোমিটার দূর থেকে অটোরিকশায় অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে, এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে তেল না থাকার কথা বললেও রাতের বেলা বা গোপনে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণবন্দর এলাকার আমিরুল ওয়েল সাপ্লাই ও ধানহাটার শামীম হাসানের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং সাধারণ যানবাহন ও পরিবহন চালকদের সরাসরি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ ধানহাটায় শামীম হাসানের বাসার গুদামে অভিযান চালিয়ে ১০ ব্যারেল মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করেন।
অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন। এ সময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে শামীম হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ এনামুল হক মৃধা বলেন, “আমি ভান্ডারিয়া থেকে মঠবাড়িয়ায় চাকরি করি। তেলের সংকটের কারণে প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।”
এ ব্যপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদিপ্ত দেবনাথ বলেন,ভোক্তা অধিকার আইনে মোবাইল কোর্ট জরিমানা ও দন্ড প্রদান করা হয়েছে
এদিকে স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে কৃত্রিম সংকট বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক দামে জ্বালানি তেল পাবে।