দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলেছে মিলমালিকদের সংগঠন। দাবি না মানা হলে বাজারে সরবরাহ বন্ধেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকেই কয়েকটি কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। ফলে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে সংকট দেখা দেয় এবং খোলা তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ে।
বর্তমানে মিলমালিকদের সংগঠন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ৫ লিটারের বোতল ৯৫৫ টাকা থেকে ১,০২০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ থেকে ১৮৫ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৬৪ থেকে ১৭৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নতুন মূল্য কার্যকরের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।
এ অবস্থায় বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক লিটারের বোতল সয়াবিন প্রায় অনুপস্থিত, আর খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকায়, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুত জব্দ এবং জরিমানাও করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে কঠোর তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ সংকট আরও বাড়তে পারে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।