বহুজাতিক তামাক কোম্পানি জেটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিমিটেড (জাপান টোব্যাকো)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১১২ কোটি টাকার শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকির চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট।
এনবিআরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৯ কোটি টাকার তামাকপাতা ক্রয় করলেও উৎসে ভ্যাট বা মূসক একটিও পরিশোধ করেনি। এছাড়াও পুরোনো শুল্ক হারে তৈরি সিগারেট মজুত করে নতুন বর্ধিত মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত ফাঁকি দিয়েছে।
বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার মো. আতিকুর রহমান জানান, তামাকপাতা কেনায় উৎসে ভ্যাট কর্তনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা পালন করা হয়নি। আমরা এনবিআরকে অনুরোধ করেছি, দেশের প্রতিটি ভ্যাট কমিশনারেটকে নির্দেশনা দিয়ে অন্যান্য তামাক কোম্পানিকেও একই নিয়মের আওতায় আনা হোক।
এনবিআরের অনুসন্ধান অনুযায়ী, উৎসে ভ্যাট বাবদ অপরিশোধিত রাজস্বের বছরভিত্তিক বিবরণ হলো:
২০২০-২১: ২২ কোটি ৪৫ লাখ
২০২১-২২: ২৪ কোটি ৯২ লাখ
২০২২-২৩: ২০ কোটি ৪৯ লাখ
২০২৩-২৪: ৪ কোটি ৭১ লাখ
২০২৪-২৫: ২৩ কোটি ৩ লাখ
এছাড়াও পুরোনো হারে তৈরি সিগারেট মজুত করে নতুন বাজেট ঘোষণার পর দাম বৃদ্ধি হলেও, ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শুল্ক-কর বাবদ সুদ আরোপের পর মোট দাবি আরও বৃদ্ধি পাবে।
জাপান টোব্যাকোর কর্পোরেট ও মিডিয়া রিলেশন কর্মকর্তা কাজী রুবাইয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনবিআরের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তামাকপাতা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘কৃষককে সরাসরি জোগানদার’ বিবেচনা করে ফাঁকি-করকে বৈধ দাবি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও, আইন অনুযায়ী এটি গ্রহণযোগ্য নয়। চূড়ান্ত আদেশে ৯৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা উৎসে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
তদন্তের পরও প্রতিষ্ঠানটি আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করেছে যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।