কলমের মতো দেখতে কিন্তু ভেতরে প্রাণঘাতী অস্ত্র এমন একটি ডিভাইস ‘পেনগান’কে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। সহজে বহনযোগ্য ও নজর এড়িয়ে ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় এটি অপরাধীদের হাতে ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় যুবদল নেতা রাসেলকে গুলির ঘটনায় এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য সামনে আসে। ঘটনার পর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে সোহেল ওরফে কাল্লু ও সায়মন নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে ‘পেনগান’ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অস্ত্রটি প্রায় ৮০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেছিল বলে স্বীকার করেছে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এটি ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর অস্ত্রটি বিভিন্ন অংশে খুলে একটি সিগারেটের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, অস্ত্রটি দেখতে কলমের মতো হলেও এটি কার্যত একটি ক্ষুদ্র কিন্তু মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র। ডিএমপির ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন অস্ত্র আগে বাংলাদেশে ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায়নি। ফলে এর উৎস ও নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে একাধিক দল কাজ করছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে আসতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ছদ্মবেশী অস্ত্র চরমপন্থী বা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের হাতে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হলেও অস্ত্রটির উৎস ও বিস্তার এখন মূল তদন্তের বিষয়। প্রযুক্তিগত সহায়তায় এর ব্যবহার ও সরবরাহ চক্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক ও ছদ্মবেশী অস্ত্রের ব্যবহার বাড়লে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের অপরাধ দমনে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
সব মিলিয়ে পেনগানের মতো অপ্রচলিত অস্ত্রের আবির্ভাব নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।