২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং তা শেষ হবে ৭ জুনের মধ্যে।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো গত দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জরুরি নির্দেশনা জারি করছে। এ বছর দেশের ৩ হাজার ২০৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার সময় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খন্দকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, অনেক কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা ব্যবহৃত হলেও নতুন কেন্দ্রগুলোতেও এটি কার্যকরভাবে চালু রাখতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মনে করছেন, নকল প্রতিরোধের পাশাপাশি পরীক্ষার পরিবেশে অতিরিক্ত কঠোরতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ মজিবুর রহমান বলেন, সিসি ক্যামেরা ও কঠোর নজরদারির কারণে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে, যা পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শেখার মান উন্নয়ন ও দক্ষতা বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাদানের মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভালো শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নীতিমালা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে এবারের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও থেকে গেছে।