মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

মাছের শরীরে বিষাক্ত ধাতু : উপকূলীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

কথাভিশন রিপোর্ট

মাছের শরীরে ভারী বা বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় ও নদী-সংলগ্ন অঞ্চলে এসব ক্ষতিকর ধাতুর পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

আর্সেনিক, সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, নিকেলসহ বিভিন্ন ধাতুকে বিষাক্ত বা ভারী ধাতু বলা হয়। এগুলোর সামান্য উপস্থিতিও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এসব ধাতুর প্রভাবে শরীরে দেখা দিতে পারে : শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যা
কিডনিজনিত জটিলতা, স্নায়বিক দুর্বলতা, দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি, মাথাব্যথা, বমিভাব, অবসাদ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া।

বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম, সিসা ও ক্রোমিয়াম শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী ধাতুদূষণ বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি বিভিন্ন নদী ও মোহনা অঞ্চল যেমন মাতামুহুরী নদী, বাকখালী নদী, মহেশখালী চ্যানেল, নাফ নদী ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এলাকায় পরিচালিত হয়।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে বাকখালী ও মহেশখালী এলাকায়, যেখানে দূষণের মাত্রা উচ্চমাত্রার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতিও অত্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভারী ধাতুদূষণের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে :
শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশনের দূষিত পানি, জাহাজ ভাঙা, শিল্পের বর্জ্য, নগর ও কৃষি বর্জ্য।

এসব দূষণ সরাসরি নদী ও সমুদ্রের পানিতে মিশে জলজ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জলজ পরিবেশে থাকা ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জুওপ্লাঙ্কটন এসব ধাতু শোষণ করে। এরপর ছোট মাছ থেকে বড় মাছ পর্যন্ত খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।

ফলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায় ৭১০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি দেশের মৎস্য ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে লক্ষাধিক মানুষ মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত এবং বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়।

তবে শিল্পায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে এই অঞ্চল এখন পরিবেশগত চাপে রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন গবেষণায় মাছের শরীরে বিপজ্জনক ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কিছু বাণিজ্যিক মাছেও ক্রোমিয়াম ও ক্যাডমিয়ামের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে যা স্বাভাবিক সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন : শিল্প ও নগর বর্জ্য পরিশোধন বাধ্যতামূলক করা, নদী ও জলাশয়ে সরাসরি বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা, মাছ চাষের পুকুর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা
দূষণ উৎস চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণ করা. পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা

মাছের শরীরে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয় এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত একটি বড় সংকেত। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই দূষণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *