রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশ, বিশেষ করে শহরতলী এলাকার প্রতিটি বাজারে ধামরাইয়ে উৎপাদিত টাটকা সুস্বাদু সবজির চাহিদা সব সময় শীর্ষে। সংশ্লীষ্ট অভিজ্ঞজনদের মতে ধামরাইয়ে উৎপাদিত শীর্ষ চাহিদার কারণ হলো- মাটির গুণাগুন, কৃষকদের উৎপাদন কৌশল, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা।
সাভার থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের রাস্তা পরিয়ে পাকারাস্তার ধারে চোখে পড়ে ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের ফড়িঙ্গা সবজির সান্ধ্যকালীন বিশাল পাইকারী বাজার । সেখানে বিভিন্ন ধরণের টাটকা সবজির বিশাল সমাহার। যেন বিশাল এক সবজির মেলা। জানাগেল প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাকি বসে এমন সবজির মেলা, বেচাকেনা চলে গভীর রাত পযন্ত। বাজারে সবজি নিয়ে আগত স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম, জব্বার, হায়াত আলী জানালেন, আমরা সারাদিন মাঠ থেকে সবজি তুলি, বিকেলে এখানে এনে সন্ধ্যার পর বিক্রি করি।

ধামরাইয়ে ফড়িঙ্গায় সবজির সান্ধ্যকালীন পাইকারী বাজার
পাইকারী ক্রেতা আনোয়ার, মজিবর, মান্নান জানান, কাষ্টমারের কাছে এখানকার সবজির চাহিদা সবচেয়ে বেশি তাই আমরা সরাসরি এই বাজার থেকে সবজি কিনতে আসি।
ধামরাই উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান জানান, প্রায় এক যুগ আগে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এসডিআই সবজি চাষী অধ্যুষিত এই এলাকার চাষীদের সংগঠিত করে তাদেরকে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি ও কলাকৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ঐ এলাকার চাষিরা এখনো নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছে।
ফড়িঙ্গা সান্ধ্যকালীন সবজি বাজারের পক্ষ থেকে প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এবং কয়েকজন কৃষক জানান, এলাকায় কোন ভাল আড়ৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় একসময় এ লাকার চাষিদের প্রচুর সবজি নষ্ট হতো। তাতে কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতো। কিন্তু এই বাজারটি গড়ে উঠায় এখন আর তা হয় না। প্রতিটি কৃষক প্রতিদিন তার উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে নগদ টাকা ঘরে নিতে পারছে। এতে সবজির অপচয় বন্ধ হয়েছে, কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।