নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে শিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে জিডিপির একটি বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও সামনে আনা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা দেওয়া হলেও তা ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ১০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে। তবে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও এই বরাদ্দের মাধ্যমে শুধু উৎসব ভাতা বৃদ্ধি নয়, নতুন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার সুযোগও তৈরি হবে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ৫৪৭৬১৪ হাজার টাকা এবং কলেজ পর্যায়ে প্রায় ২২৯২৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে মোট অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৭৭৬৬৩৮ হাজার টাকার মতো।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। এই বাজেট কাঠামোর মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বিকাশ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধি শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয় বরং এটি শিক্ষা খাত সংস্কার ও উন্নয়নের বৃহৎ পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।