মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাগরে ইলিশ ধরতে গিয়ে মোড়েলগঞ্জের জেলের মৃত্যু কুড়িগ্রামে অরণ্যের উৎসব ধামরাইয়ে ডাকাতের ঘটনায় গ্রেফতার ৬: অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধার মোরেলগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ধামরাইয়ে রাইস মিলের যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগে মারধরের সাত দিন পর যুবকের মৃত্যু শেরপুরে নিখোঁজের আটদিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১৯ জন ধামরাইয়ে পরের জায়গায় ভাঙ্গা ঘরে বিধবা বৃদ্ধা আলো রানীর বসবাস, দু:শ্চিন্তায় দিন পাড় রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়াচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক: জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল ব্যস্ততার অজুহাতে আগে ফরজ নামাজ? ইসলামে কী বিধান চরহরিরামপুরে ব্রিজ নির্মাণে সুফল নেই, দ্রুত রাস্তা চান স্থানীয়রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, প্রার্থী ফখরুল ও অলি প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী ভালো চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি : জাহিদ হাসান তীব্র গ্যাস সংকটে রাজধানী, ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি চরম ধামরাইয়ে বিএনপি’র আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের প্রতি তাগিদ, তারেকের ভারত সফরে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
Notice :

সকলের অংশীদারিত্ব উন্নয়নকে টেকসই করে

Reporter Name
এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক খান রানা

-এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক খান  রানা

 

ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় ক্ষেত্রে উন্নয়ন বলতে বোঝায় অগ্রগতি, পরিবর্তন এবং জীবনমানের ধারাবাহিক উন্নয়ন । উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচক দ্বারা মূল্যায়নযোগ্য নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির সমন্বয়ে নির্মিত একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। যে কোনো সমাজে উন্নয়ন যত বেশি গুণগত ও পরিমাণগতভাবে গভীর হবে, সেই সমাজের সদস্যরা তত বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগোতে সক্ষম হবে। তাই উন্নয়নকে বাধাহীন ও স্থায়ী করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

উন্নয়নে অংশীদারিত্বের ধারণা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এখানে অংশীদারিত্বের অর্থ কেবল আর্থিক অবদান নয়; বরং মনোভাবগত ও নৈতিক সহযোগিতাও একইভাবে মূল্যবান। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে মানুষের সম্মতি, তাকে উৎসাহ দেওয়া, প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা বোঝা এবং বিরোধিতা না করে যুক্তি নির্ভর সমালোচনা — এগুলোও অংশীদারিত্বের অন্তর্ভুক্ত। উন্নয়নে অংশগ্রহণের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জনগণের স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবাধ অংশগ্রহণ, দুর্বল ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং প্রকল্পের প্রভাব সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। উন্নয়ন যখন সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে, তখন তার ফল শেয়ার করা ন্যায্য হয় এবং টেকসই হয়।

বিরোধিতা ও বিতর্ক সমাজে স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়; কিন্তু এদের কাকতালীয়তা ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। তর্ক তবেই গঠনমূলক যখন তা যুক্তি নির্ভর, প্রমাণভিত্তিক এবং কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে উদ্বুদ্ধ। অপরদিকে, বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা বা তর্কের খাতিরে তর্ক—এসব অনৈতিক আচরণ প্রকৃত উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, রাজনৈতিক স্বার্থ, বা ক্ষুদ্র স্বার্থকে এগিয়ে রেখে যদি উন্নয়ন রোধ করা হয়, তা সাময়িক রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত লাভের বিনিময়ে বড় ক্ষতি ডেকে আনে। তাই নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তর্ক-প্রক্রিয়াকে সংবেদনশীল, সহমর্মী ও জবাবদিহিমূলক রাখতে হবে।

একটি সফল উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন সমন্বয় ও পারস্পরিক সম্মান। প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রতিটি স্টেকহোল্ডারের মতামত বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশেষত: ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কথা জীবনের প্রতিটি স্তরে রাখা দরকার। অংশীদারিত্ব মানে এখানে শক্তিশালীদের অনুকূলতাই নয়; বরং দুর্বলদের ক্ষমতায়ন করে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা করা। সামাজিক মৈত্রী ও ন্যায়বিচার বজায় থাকলে উন্নয়নের সুফল সকলের জন্য সহজলভ্য হয়।

ছবি: সংগৃহীত

মানবিক দিক থেকে উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক সূচক বৃদ্ধি নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সম্ভাবনার প্রসার। উদাহরণ স্বরূপ, একটি সড়ক বানানো শুধুই পথ নির্মাণ নয়—সে পথে শিশুদের স্কুলে যাওয়া, নারীদের বাজারে নিরাপদে পৌঁছানো, কৃষকদের পণ্যের দ্রুত বাজারজাতকরণ—এসব জীবনের দিক পরিবর্তন করে। তাই উন্নয়নকে মানুষের জীবনের গভীরতার সাথে মাপা উচিত। উন্নয়ন যদি পরিবেশের ক্ষতিসাধক হয় কিংবা সামাজিক সম্পর্ক ভাঙে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। নৈতিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে উন্নয়নকে পরিবেশবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘ স্থায়ী করতে সচেতন পরিকল্পনা গ্রহণ করা আমাদের দায়িত্ব।

অবশেষে, রাষ্ট্র ও ব্যক্তি—উভয়েরই দায় অতি গুরুতর। রাষ্ট্রকে নীতি-নির্ধারণ, ন্যায্য বিতরণ ও দুর্নীতিনিরোধের মাধ্যমে পরিবেশ তৈরি করতে হবে; আর নাগরিকদের দায়িত্ব হলো ন্যায়প্রমাণিত উন্নয়নকে সমর্থন করা, অযৌক্তিক বিরোধিতা থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে নৈতিকভাবে প্রতিহত করা। ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থ বা বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে সমাজ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে উন্নতি অর্জন করবে। উন্নয়নকে স্বল্পমেয়াদী একতা-উৎপাদন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়ী ও সহনশীল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হলে প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব।

সংক্ষেপে, উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরস্পরের পরিপূরক। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সকলের অংশীদারিত্ব অপরিহার্য—এটি হতে হবে যুক্তি নির্ভর, নৈতিক ও মানবতাবান্ধব। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এক জোটে কাজ করলে উন্নয়ন হবে সমৃদ্ধ, ন্যায্য ও টেকসই — এবং তবেই আমাদের সকলের অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।

লেখক: সচেতন নাগরিক; আয়কর আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট                                                                                                                              অনুলিখন: মিজানুর রহমান, সাংবাদিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *