ঢাকার মানুষ এখনও ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁতে পারেনি তবে শহরে গরমের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় পারদ ৩৬ ডিগ্রিতে থাকলেও মানুষ অনুভব করছেন ৪২ ডিগ্রির বেশি তাপ। রাস্তায় বের হলে মনে হচ্ছে আগুনের চুল্লিতে হাঁটা হচ্ছে; ঘাম ঝরছে অবিরাম তবু শরীর ঠান্ডা হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এখন থার্মোমিটারের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হিট ইনডেক্স বা তাপ সূচক। আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পায়।
বুধবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের প্রায় ৬ ডিগ্রি বেশি। রাতের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা দিনের গরমকে আরও কষ্টদায়ক করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টি থাকলেও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কমছে না। শহরের কংক্রিটকৃত অবকাঠামো, কম সবুজায়ন ও জলাশয়ের অভাব ঢাকাকে একটি তাপীয় দ্বীপে পরিণত করেছে। ঢাকার কেন্দ্রের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা শহরের বাইরের তুলনায় দিনে প্রায় ৭ ডিগ্রি বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান, জানান, হাজার হাজার এসি থেকে নির্গত তাপও শহরের বাতাসকে গরম করছে। যারা এসি ছাড়া থাকেন তারা আরও বেশি ভ্যাপসা গরমের শিকার হচ্ছেন।